ঢাকাWednesday , 28 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

Bangladesh
September 27, 2026 5:30 am
Link Copied!

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন থেকে নিজেদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার্থে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সাহসী পদক্ষেপ নেন। সম্প্রতি দুপুরে নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় তারা নিজেরাই মাঠে নামতে বাধ্য হন।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বালাসীঘাটের নিকটবর্তী খোলাবাড়ী গ্রামের উজান অংশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীর একেবারে কাছ থেকে বালু তোলার ফলে এর আশেপাশের অঞ্চলে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পূর্ব খোলাবাড়ী এবং উত্তর উড়িয়া গ্রামের অসংখ্য বসতবাড়ি, উর্বর ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও তারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তરે অভিযোগ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখায় তারা নিজেরাই নদীতে গিয়ে ড্রেজারগুলো আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ও আব্দুর রশিদ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করেছে, তাই ঘরবাড়ি বাঁচাতে তারা বাধ্য হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। অপর এক বাসিন্দা ওমর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, তাই স্থায়ীভাবে এই ভাঙন রোধ করা জরুরি।

পরিস্থিতি বেগবান হওয়ায় স্থানীয় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালুও বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ড্রেজার মালিক মিলন মিয়া এবং নৌকা মালিক হেলোয়ার হোসেনকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদীতীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবেন না মর্মে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকাও আদায় করা হয়েছে।