ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি: নারীর লাশ উদ্ধার, বাবাসহ নিখোঁজ ৩ সন্তান

Bangladesh
September 25, 2026 11:30 am
Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া স্বজনদের বহনকারী একটি ট্রলার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনা নদীতে তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে। কুমিল্লার হোমনা থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজার এলাকার দিকে যাওয়ার পথে আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঝোড়ো হাওয়ায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যাওয়ায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রলারটিতে বিয়ের যাত্রীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের জন্য দুটি গরু, একটি খাসি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রীও বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত বোঝাই এবং তীব্র ঝড়ের কারণে নৌযানটি টিকতে না পেরে মাঝনদীতে ডুবে যায়।

এই দুর্ঘটনায় রায়েসা আক্তার নামের ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একই পরিবারের চারজনসহ মোট চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত রায়েসা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন হেলাল উদ্দিন এবং তাঁর দুই ছেলে সজিব হোসেন ও সামিন হোসেন এবং মেয়ে সামিয়া আক্তার। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় লোকজন এবং একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে এর মধ্যেই রায়েসা বেগমসহ পরিবারের চারজন নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে রায়েসা বেগমের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকিদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বৈদ্যেরবাজার নৌফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক জানান যে বিয়ের নানা সামগ্রী ও গবাদিপশু নিয়ে নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ কালবৈশাখীর মতো ঝড়ের কবলে পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়া মাত্রই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

ঘটনার পরদিন সকাল থেকে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ সদস্যরা தீவிர তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষও উদ্ধার অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। তবে নদীর তীব্র স্রোত এবং পানির গভীরতা বেশি থাকায় ডুবুরিদের কার্যক্রমে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান মেলেনি এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।