ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শব্দসৈনিক রেজাউল করিম রবু আর নেই

Bangladesh
September 20, 2026 9:47 pm
Link Copied!

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কারণ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক রেজাউল করিম রবু আর আমাদের মাঝে নেই। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, যা তাকে দেশের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান এবং পরবর্তীকালে গণমাধ্যমে তার পেশাদারিত্বের জন্য তিনি সর্বমহলে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

কর্মজীবনের একটি দীর্ঘ ও সফল সময় তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে তিনি মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। টেলিভিশন মাধ্যমকে জনমুখী ও মানসম্মত করে তুলতে তার অবদান ছিল অগ্রগণ্য এবং সহকর্মীদের কাছে তিনি এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীল অঙ্গনেও তার সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। অবসরে যাওয়ার পরও তিনি দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা জাতি সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে, যখন তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মুক্তিকামী মানুষকে উজ্জীবিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে তার কণ্ঠ ও অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের সেই কঠিন দিনগুলোতে তার ভূমিকা তাকে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি আজীবন সচেষ্ট ছিলেন।

তার এই মহাপ্রয়াণে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলা সংস্কৃতি ও মুক্তিসংগ্রামে তার অবদানের কথা স্মরণ করে বিভিন্ন মহল থেকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হচ্ছে। যদিও তিনি শারীরিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তবে তার আদর্শ ও কর্মজীবন আগামী দিনেও সংস্কৃতিকর্মী ও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।