ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হবিগঞ্জের মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ

Bangladesh
September 19, 2026 7:18 am
Link Copied!

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসংলগ্ন জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার একটি মুরাল অপসারণ করা হয়েছে। প্রায় কিছুদিন আগে চত্বরের সংস্কারকাজের সময় এই মুরালটি সরিয়ে ফেলা হলেও, কার বা কোন মহলের নির্দেশে এটি অপসারণ করা হলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক এই স্মারকটি হঠাৎ এভাবে সরিয়ে ফেলায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে সরকারি উদ্যোগে ওই গোলচত্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম দিকপাল জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি সংবলিত স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিবছর বিভিন্ন জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই চত্বরে জমা হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন।

এদিকে মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের মুক্তি সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী এই চার নেতার স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওই স্থানে জাতীয় চার নেতার বদলে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের মুরাল স্থাপন করা হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো হাত নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুরাল অপসারণ কিংবা নতুন কোনো মুরাল নির্মাণের বিষয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে কার বা কাদের উদ্যোগে এই অপসারণ করা হলো, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও এই মুরাল অপসারণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।