জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের মতো গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের পৃথক দুটি ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় এই বড় অংকের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং ইতিহাস বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। শিক্ষাঙ্গনে র্যাগিংয়ের সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে এবং ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন এই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি পর্যালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। র্যাগিংয়ের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের অভিযুক্ত মোট ২০ জন শিক্ষার্থীকে এই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা ও সংশ্লিষ্টতার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকের আলাদা অংকের জরিমানা নির্ধারিত হয়, যা সব মিলিয়ে ছয় লাখ পনেরো হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগামী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ফান্ডে জমা দিতে হবে বলে প্রশাসনিক আদেশে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কতৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা গ্রুপ র্যাগিংয়ের সাহস না পায়। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।