ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন যে ধূলিস্যাত করা এই উপাসনালয়টি প্রায় শতবর্ষ পুরনো এবং এর সঙ্গে তাদের ধর্মীয় আবেগ গভীরভাবে জড়িত ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সরকারি জমিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া ও সরকারি নির্দেশ মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদটি অবস্থিত ছিল। শতবর্ষ পুরনো এই স্থানটিতে নিয়মিত বহু মানুষ ইবাদত করতে আসতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হঠাৎ করে প্রশাসনের বুলডোজার চালানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
সরকারি মহলের তরফ থেকে অবশ্য এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং স্পষ্ট করা হয়েছে যে আইনের শাসন বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে এই নির্মাণটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং বহুবার সতর্ক করার পরও তা সরিয়ে নেওয়া হয়নি। সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার বৃহত্তর অভিযانের অংশ হিসেবেই এটি অপসারণ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে অসন্তোষের পারদ চড়তে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরণের পদক্ষেপ সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।