ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কি কমে সন্তান ধারণের ক্ষমতা?

Bangladesh
September 19, 2026 2:47 pm
Link Copied!

আধুনিক জীবনের নানা ব্যস্ততা এবং কাজের চাপে অনেকেই বর্তমানে নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস হারিয়ে ফেলছেন, যা মানবদেহের সামগ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য ঘুমের সময়, মান এবং নিয়মিততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অপর্যাপ্ত ঘুম বা ঘুমের অনিয়ম শুধু শারীরিক ক্লান্তিই বাড়ায় না, বরং তা সন্তান ধারণের সক্ষমতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে প্রজনন ক্ষমতা অটুট রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের পরিমাণের সঙ্গে সন্তান ধারণের সক্ষমতার সম্পর্কটি একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে আবর্তিত হয়। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম কিংবা নয় ঘণ্টার বেশি সময় ঘুমালে তা প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন দম্পতির কৃত্রিম প্রজনন এবং সন্তান ধারণের সময়সীমা নিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, প্রতিদিন প্রায় সাত থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমানোই সবচেয়ে আদর্শ সময়। তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি সময় ঘুমালেই বেশি উপকার পাওয়া যাবে, বরং শরীরের জৈবিক চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত ঘুমই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

ঘুমের মোট পরিমাণের পাশাপাশি ঠিক কোন সময়ে ঘুমানো হচ্ছে, সেটিও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং সকালে দেরিতে ওঠার অভ্যাস শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা জৈবিক ছন্দকে ব্যাহত করে, এমনকি আট ঘণ্টা ঘুম হলেও তা পুরোপুরি সুফল দেয় না। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নারীদের ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণকারী লুটিনাইজিং হরমোন (এলএইচ) এবং ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের (এফএসএইচ) স্বাভাবিক নিঃসরণে রাতের নিয়মিত ঘুমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আর যারা অনিয়মিত জীবনযাপন করেন বা নিয়মিত রাতের শিফটে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সন্তান ধারণে বেশি সময় লাগার পাশাপাশি মাসিকের অনিয়মসহ নানা জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ঘুমের এই বিষয়টি কেবল নারীদের জন্যই নয়, বরং পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত ঘুমের সময় পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা এবং শুক্রাণুর গুণগত মান বজায় রাখতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঘুমের ঘাটতি ঘটলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই সন্তান লাভে ইচ্ছুক দম্পতিদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।