ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহে সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি, কমছে সেচ খরচ

Bangladesh
September 21, 2026 11:51 am
Link Copied!

দেশের কৃষি খাতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের চড়া দামের কারণে যখন কৃষকদের উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থা। প্রচলিত ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্পের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা কমানোর জন্য ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন কৃষকদের সেচ কাজের বহুমুখী খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো পানি পাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় ফসলের ফলনও অনেক ভালো হচ্ছে।

ঝিনাইদহের মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন যে, আগে ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর ভরসা করে জমি চাষ ও সেচ দিতে গিয়ে তাঁদের পকেট থেকে প্রচুর অর্থ খরচ হয়ে যেত। বিশেষ করে খরা মৌসুমে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচ খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়তে হতো তাঁদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোলার সেচ পাম্পগুলো চালু হওয়ার পর থেকে সেই দুর্দিন থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলেছে। এখন আর অতিরিক্ত দামে ডিজেল কেনার ঝামেলা পোহাতে হয় না এবং নির্ধারিত নামমাত্র খরচে প্রয়োজনমতো জমিতে পানি দিতে পারছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন সোলার প্রকল্পের আওতায় এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে এই সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌর সেচ পাম্পগুলো পরিচালনা করা যেমন সহজ, তেমনই এটি প্রকৃতির জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও দূষণমুক্ত। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও বেশি টেকসই ও শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঝিনাইদহের কৃষকদের এমন সাফল্যের পর স্থানীয় অন্য কৃষকেরাও এখন নিজেদের জমিতে এই সৌরপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আধুনিক এই সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন খরচ আরও কমে আসবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই খাতে আরও প্রণোদনা ও সহযোগিতা বাড়ানো হয়, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির এমন বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।