ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

Bangladesh
September 26, 2026 12:16 am
Link Copied!

জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দেশটির শতাধিক শহরে ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। ‘স্কুল স্ট্রাইক অ্যাগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন’ নামক একটি উদ্যোগের ব্যানারে এই ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব করা শুরু করলে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রধান অভিযোগ হলো, সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই এমন শত শত শিক্ষার্থীকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিল শহরের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গোলো কির্শ জানান, তাদের জানানো হয়েছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা আগামী বছর থেকে শুরু হবে এবং এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তার মেইলবক্সে তলবপত্র চলে আসে এবং সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা জোরপূর্বক কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেবেন না এবং ব্যারাকেও যাবেন না।

চলতি দশকের শুরুর দিকে প্রণীত জার্মানির নতুন সামরিক সেবা আইনের আওতায় ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, বিভিন্ন দক্ষতা এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের মানসিকতা যাচাই করা হয়। যদিও বর্তমান সরকার সামরিক সেবা ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছামূলক বলে দাবি করছে, তবুও শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা সরকার ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার গোপন কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ২০০৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া তরুণদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূলত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট দূর করতেই সরকার এই নতুন সামরিক সেবা নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ হলেও, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নতুন সদস্য প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গটি আবারও সামনে আসতে পারে।