ঢাকাWednesday , 28 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হলেন শাওলিন

Bangladesh
September 28, 2026 7:46 am
Link Copied!

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও তা ছেড়ে আইন পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন সৈয়দা শাওলিন আকতার আলো। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর সন্তান শাওলিন ছোটবেলা থেকেই বিচারক হওয়ার সুপ্ত স্বপ্ন লালন করতেন। বাবা শিক্ষক হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে পড়াশোনার এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গাইবান্ধায় স্কুল ও কলেজের পাঠ শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিচারক হওয়ার অদম্য বাসনা থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়লেও দ্রুত তা কাটিয়ে ওঠেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতাও করতেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তার ব্যক্তিত্ব গঠনে এবং চিন্তার পরিপক্বতা আনতে বড় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ চার বছর আইন বিষয়ে সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি বিচারক হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেন।

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বা বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন শাওলিন। বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়া এবং পরবর্তীতে আইনের ওপর গভীর পড়াশোনা থাকায় তার প্রস্তুতি বেশ গোছানো ছিল। পরীক্ষার তারিখ একাধিকবার পেছালেও তিনি পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হননি। মাস্টার্সের ক্লাস, পরীক্ষা এবং শিক্ষকতার ব্যস্ততার মাঝেও তিনি প্রতিদিন নিয়মিত পড়ার অভ্যাস বজায় রেখেছিলেন। ফল প্রকাশের দিন মেধা তালিকার পঞ্চম অবস্থানে নিজের রোল নম্বর দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

এই সাফল্যের পেছনে পরিবার ও স্বজনদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন শাওলিন। তার নানু ও বড় মামা তাকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছিলেন। এছাড়া বাবা-মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা তাকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে শক্তি জুগিয়েছে। নানা প্রতিকূলতা ও অসুস্থতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল ছিলেন তিনি।

ভবিষ্যতের বিচারক ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন এই তরুণী। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ার চাপের চেয়ে নিয়মিত ও কার্যকর পড়ালেখাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করাই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা আগামীদিনের তরুণ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করবে।