ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার

অ্যালার্ম বাজলেও সকালে ঘুম ভাঙে না কেন?

Bangladesh
September 14, 2026 10:47 am
Link Copied!

অনেকেই রাত জেগে সহজে কাজ করতে পারলেও সকালের দিকে বিছানা ছাড়তে গিয়ে তীব্র অনীহার মুখোমুখি হন। অ্যালার্মের শব্দ কানে পৌঁছালেও চোখ খুলতে কষ্ট হয় এবং শরীর জুড়ে এক ধরণের অবসাদ কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষকদের মতে, ঘুম ভাঙার বিষয়টি কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয় যে সুইচ চাপলেই সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বরং ঘুম থেকে জেগে ওঠার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে সম্পন্ন হয় এবং মানুষ কোন ঘুমের পর্যায়ে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে এই অনুভূতির তারতম্য ঘটে।

ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে এবং শরীর বিভিন্ন চক্রের মধ্য দিয়ে বিশ্রাম নেয়। ঘুম ভাঙার সময় মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে তোলার পেছনে বিশেষ কিছু স্নায়বিক ব্যবস্থা কাজ করে থাকে। মস্তিষ্কের গভীর অংশ থেকে জাগরণের সংকেত প্রথমে রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম বা আরএএস নামক স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে থ্যালামাসে পৌঁছায়। এরপর সেই সংকেত চিন্তাভাবনা ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সেরিব্রাল কর্টেক্সে ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ পুরোপুরি সজাগ বোধ করে।

গভীর ঘুমের মুহূর্তে হঠাৎ করে অ্যালার্ম বেজে উঠলে ঘুম ভাঙলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় নেয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্লিপ ইনার্শিয়া বলা হয়ে থাকে, যার ফলে চোখ খোলার পরও মাথা ভারী লাগা কিংবা ঝিমুনি ভাব বজায় থাকে। সাধারণত এই ঘোর ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কেটে যায় এবং মস্তিষ্ক তার পূর্ণ কার্যক্ষমতা ফিরে পায়। তবে অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ঘাটতি থাকলে এই অলসতা আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সকালে ঘুম ভাঙার পরপরই শরীর নিস্তেজ থাকা সবসময় কোনো বড় রোগের লক্ষণ নয়, কারণ মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ সজাগ হতে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি সারাদিন অতিরিক্ত ঝিমুনি ভাব থাকে এবং দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এর পেছনে ঘুমের গুণগত মানের ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও লুকিয়ে থাকতে পারে।