আদালতের কোনো রায় কিংবা আদেশের বিরুদ্ধে বাস মালিক সমিতি বা পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বানকে অবৈধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। সম্প্রতি বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। এই রায়ের মাধ্যমে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
আদালতের এই রায়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, বিচারিক রায়ের প্রতিবাদে কোনো সংগঠন ধর্মঘট বা অচলাবস্থা তৈরি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আদালতের আদেশ অমান্য করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সংস্কৃতি থেকে পরিবহন খাত বের হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর। তৎকালীন সময়ে ডিলাক্স পরিবহনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আদালতের সাজা ঘোষণার প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ বা এইচআরপিবির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন।
চূড়ান্ত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় ও আদেশ মানতে সবাই বাধ্য এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আপিল করার সুনির্দিষ্ট পথ বাদ দিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্মঘট বা হরতাল ডাকার কার্যক্রম সংবিধানের পরিপন্থি ও সম্পূর্ণ অবৈধ। রিটকারী সংগঠনের আইনজীবীরা শুনানিকালে যুক্তি তুলে ধরেন যে, এ ধরনের অযৌক্তিক ধর্মঘটের ফলে সাধারণ নাগরিকদের চলাচলের মৌলিক স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং দেশজুড়ে তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।