দেশের অন্যতম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের বিয়ের পিঁড়িতে বসার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাতক্ষীরা শহরতলীর শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন ক্লাসের এই কিশোরীদের গোপনে বিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর থেকেই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাল্যবিয়ের শিকার হওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থী সকলেই ওই মাদ্রাসার বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রী। এর মধ্যে দশম, নবম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রয়েছে। আইনি বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের এভাবে বিয়ে দেওয়া কেবল আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং তাদের কোমল বয়সে শিক্ষাজীবনের ওপর এক বড় আঘাত। পরিবার ও সমাজের নানা পারিপার্শ্বিক চাপে এই কোমলমতি ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ছাত্রীদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কড়া নির্দেশ দিয়ে তলব করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে অভিভাবকদের অধিদপ্তর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শিশু বয়স ও শিক্ষার অধিকার হরণ করে এই ধরনের বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন এখন আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অভিভাবকদের কি ধরনের শাস্তি বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। সচেতনমহল মনে করছে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সমাজে বাল্যবিয়ে প্রবণতা কমাতে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।