রাজধানী ঢাকায় নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া মাত্র এগারো বছর বয়সি শিশু গৃহকর্মী তানিয়া আক্তারের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়মিত এবং পরিমিত খাবার দেওয়া হতো না, যার ফলে সে মারাত্মক অপুষ্টির শিকার হয়েছে। বর্তমানে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার নিজ জেলা খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্তার অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়। কাজের সামান্য ত্রুটি হলেই তার ওপর চলত শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন, পাশাপাশি তাকে নিয়মিত খাবার থেকেও বঞ্চিত রাখা হতো। অনাহারে ও নির্যাতনে শিশুটির শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও অক্ষম হয়ে পড়ে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তানিয়ার শরীরে নির্যাতনের বহু পুরোনো ও নতুন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অপুষ্টির কারণে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচিয়ে তুলতে এবং তার পুষ্টিহীনতা দূর করতে বিশেষ ডায়েট ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ধরনের শিশু নির্যাতন ও গৃহকর্মীদের ওপর অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানা গেছে।