ঢাকাSunday , 13 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পণ্যের আলোচনা করলেই বিজ্ঞাপন আসছে! ফোনের আড়ি পাতা বন্ধ করুন

Bangladesh
September 13, 2026 12:01 pm
Link Copied!

দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই দেখা যায় কোনো বন্ধু বা পরিচিতজনের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য যেমন ঘড়ি, জুতো বা নতুন গ্যাজেট নিয়ে আলোচনা করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে আসে। অনেকের মনেই এই অভিজ্ঞতার পর প্রশ্ন জাগে যে স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন কি আড়ালে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথাবার্তা শুনছে কি না। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই প্রশ্নের কোনো সরল হ্যাঁ বা না সূচক উত্তর দেন না। কারণ সরাসরি কথোপকথন রেকর্ড না করেও আধুনিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একজন মানুষের পছন্দ এবং আগ্রহ অনুমান করতে সক্ষম হয়।

স্মার্টফোনে ব্যবহার করা বিভিন্ন অ্যাপ ইন্টারনেট ব্যবহারের নানা আচরণ থেকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেটে কী সার্চ করছেন, কোন ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করছেন, কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন ভিডিও বা পোস্টে বেশি সময় কাটাচ্ছেন—এই সমস্ত ডিজিটাল কার্যক্রমের একটি সুক্ষ্ম হিসাব রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি অনলাইনে কোনো জুতার দাম দেখার পাশাপাশি সেটির ছবি বা ভিডিওতে কিছুটা বেশি সময় ব্যয় করেন, তবে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার অ্যালগরিদম সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য পছন্দ চিহ্নিত করে ফেলে।

এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর ভৌগোলিক অবস্থান, বয়স, ব্যবহৃত ডিভাইসের ধরন এবং অন্যান্য অনলাইন কার্যক্রমের বিভিন্ন সংকেত যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল তৈরি হয়। ফলে যখন কেউ বাস্তব জীবনে কোনো পণ্য নিয়ে আলোচনা করার পরপরই সেই সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখতে পান, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে ফোনটি বুঝি কথা শুনে ফেলেছে। প্রকৃতপক্ষে মাইক্রোফোনের অনুমতি থাকলে কোনো কোনো অ্যাপ তা ব্যবহার করতে পারলেও, অধিকাংশ বৃহৎ বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম মূলত এই বিশাল পরিমাণ ডিজিটাল ডাটা এবং ব্যবহারকারীর আচরণগত সিগন্যাল বিশ্লেষণ করেই লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে।

তবে ব্যবহারকারীদের নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে কোন অ্যাপগুলোকে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় বা যেসব অ্যাপের কাজের সঙ্গে মাইক্রোফোনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই অনুমতি বাতিল করা বুদ্ধিমানের কাজ। অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোনের গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি সেটিংস অপশনে গিয়ে খুব সহজেই কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে তা দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।

কেবল মাইক্রোফোনের অনুমতি বন্ধ করলেই যে সমস্ত ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন পুরোপুরি থেমে যাবে, এমন নয় কারণ বিজ্ঞাপন দেখানোর প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি বিস্তৃত। এর পাশাপাশি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন সেটিংস পরীক্ষা করা এবং অপরিচিত কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ডিজিটাল প্রযুক্তির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কারণে অনেক সময় কাকতালীয় ঘটনাগুলোকেও ব্যক্তিগত মনে হতে পারে, তাই আতঙ্কিত না হয়ে গোপনীয়তার নিয়ন্ত্রণগুলো নিয়মিত যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।