ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার

পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

Bangladesh
September 16, 2026 11:01 pm
Link Copied!

পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত নতুন সীমান্ত কমিশনকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতীয় ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে দুই প্রতিবেশী দেশের এই ধরনের সীমান্ত-সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো রকম আইনি ভিত্তি নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটির অভিমত, পাকিস্তান ও চীন মিলে এই যে যৌথ কাঠামো দাঁড় করিয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ। সুতরাং এই ভূখণ্ডগুলো নিয়ে অন্য কোনো দেশ বা তৃতীয় পক্ষ কোনো ধরনের যৌথ ব্যবস্থা বা সমঝোতা গ্রহণ করতে পারে না। পাকিস্তানের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব এলাকার ওপর দেশটির কোনো ধরনের চুক্তি করার নৈতিক বা আইনি অধিকার নেই বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। মূলত ১৯৬৩ সালে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত সেই সীমান্ত চুক্তিকে সামনে এনে ভারত তার পুরনো আপত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যার মাধ্যমে গিলগিট-বালতিস্তান ও শিনজিয়াং অঞ্চলের সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ভারতের এই আপত্তির বিপরীতে ইসলামাবাদ সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তাদের রাজধানীতে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এই নতুন কমিশন একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এই কাঠামোর অধীনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, যৌথভাবে সীমান্ত জরিপ পরিচালনা করা এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ইসলামাবাদ এই উদ্যোগকে কেবলই একটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক বিষয় হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে।

তবে নয়াদিল্লির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ ভারত মনে করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভূখণ্ডের বাস্তবিক অবস্থান পরিবর্তন বা সেখানে পাকিস্তানের বেআইনি নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা সরাসরি ভারতের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। এর আগেও চীন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর প্রসঙ্গ আসায় ভারত তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সব মিলিয়ে, নতুন এই সীমান্ত কমিশনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ভূরাজনৈতিক ও সীমান্ত বিরোধে আরও একটি নতুন কূটনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।