দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যেই এবার সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্যাতালিকায় থাকা বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হস্তচালিত বেকারিগুলোর উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রীর দাম প্রায় বিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সরাসরি দাম না বাড়িয়ে পণ্যের আকার বা ওজন কমিয়ে দিয়ে একধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে যে, স্বল্প আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা এসব খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মানভেদে আগে যে ছোট পাউরুটি বা কেক দশ টাকায় পাওয়া যেত, তা বেড়ে এখন পনেরো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে পনেরো টাকার বিভিন্ন রুটি ও কেকের দাম বাড়িয়ে কুড়ি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় আকারের পাউরুটির ক্ষেত্রে পরিবারভেদে দাম পনেরো থেকে ত্রিশ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বেকারিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের শুকনো বিস্কুট, চানাচুর এবং বনরুটির দাম কেজিপ্রতি বিশ থেকে চল্লিশ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আটা, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও রান্নার গ্যাসের মতো প্রধান কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেকারি মালিকরা।
বেকারি পণ্যের এই হুট করে দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে এই শ্রেণির মানুষগুলো সাধারণত চা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বেকারি পণ্যের ওপর নির্ভর করে তাদের ক্ষুধা নিবারণ করে থাকেন। সেগুনবাগিচা এলাকার এক রিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, কাজের মাঝে চা ও বিস্কুট খেয়ে সামান্য ক্ষুধা মেটানোই এখন তার জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই ধরনের দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন পোশাক শ্রমিকরাও, যাদের পক্ষে সকালের নাশতায় সন্তানদের পাউরুটি বা বিস্কুট কিনে দেওয়া এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন ইতিমধ্যে হ্রাস পেয়েছে, তখন এই ধরনের জরুরি ও সহজলভ্য খাদ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে সমিতির পক্ষ থেকে বিশ শতাংশ দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় সাত হাজার ক্ষুদ্র বেকারির কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের এই মৌলিক খাদ্যের জোগান সচল রাখতে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।