খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলায় খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে পুরনো ও নষ্ট মিষ্টির সঙ্গে নতুন মিষ্টি মিশিয়ে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী স্থানীয় বনফুলের শাখা থেকে মিষ্টি কিনে খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি শিশুদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা বিষয়টি মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে দোকানে নষ্ট মিষ্টি বিক্রির সুস্পষ্ট প্রমাণ পান এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাহমিনা মিতু। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় মিষ্টির দোকানটির কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে তাদের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়। সাধারণ ভোক্তারা প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং জনস্বার্থে এই ধরনের বাজার তদারকি নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।