সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়রা এলাকায় একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবির ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। আকস্মিক এই নৌযান ডুবির ফলে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই তরুণ শ্রমিক নদীর পানিতে নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
নিখোঁজ হওয়া ওই দুই শ্রমিকের নাম মোরশেদ এবং ফয়সাল। এদের মধ্যে পঁচিশ বছর বয়সী মোরশেদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানার আন্ডার চর গ্রামে এবং একুশ বছর বয়সী ফয়সালের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার কাশিমনগর এলাকায়। দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে থাকা অন্য শ্রমিকরা কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও এই দুজনে নদীগর্ভে তলিয়ে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, বাল্কহেডটি যখন ডুবে যায় তখন ওই দুই শ্রমিক সম্ভবত ইঞ্জিন রুমের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় প্রাথমিক অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে পারেননি, কারণ তারা ধারণা করছেন নিখোঁজ ব্যক্তিরা জলমগ্ন ওই নৌযানের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে পরবর্তীতে রাজশাহী থেকে একটি বিশেষ ডুবুরি দলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল দশটা থেকে সেই ডুবুরি দলটি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং যমুনার তলদেশ থেকে বালু সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান পেতে ড্রেজার ব্যবহার করে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।