রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে একটি বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং তার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে এক তরুণী তাকে কৌশলে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডেকে নেন এবং পরবর্তীতে সেখানে ফাঁদে ফেলে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকে নগরীর একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে পৌঁছানোর পর পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় এবং কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক সেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারা ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং মানহানি করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। জীবন ও সম্মান বাঁচাতে ওই শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে তার পরিবারকে বিষয়টি জানান এবং হামলাকারীদের কথামতো বিকাশের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং জীবন বিপন্ন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ধরনের অভিনব কায়দায় ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।