মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও পথচারী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডাকসু নেতারা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এই সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে judiciales সূত্রে জানা গেছে।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ আসামির সম্পত্তির অর্ধেক অংশ বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে এই আসামিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উসকানি, নির্দেশ এবং সহিংসতায় অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগে উঠে এসেছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়ে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। এর আগে একই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।