ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Bangladesh
September 15, 2026 3:02 pm
Link Copied!

ডিজিটাল অপরাধ কঠোরভাবে দমনের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও প্রতারণার মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (অতিরিক্ত আইজিপি), যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাইবার সংক্রান্ত সকল জটিল মামলার তদন্ত পরিচালিত হবে। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন শাখা যেমন পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মূলত অ্যাডহক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও সাইবার ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় এই অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলো দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একটি স্থায়ী, সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বর্তমান প্রশাসন এই নতুন সাইবার ইউনিট গঠনের রূপরেখা তৈরি করেছে। পুলিশ বাহিনীতে ইতিমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স এবং প্রকৌশলবিদ্যার ওপর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা অনেক মেধাবী সদস্য কর্মরত রয়েছেন। প্রস্তাবিত নতুন এই ইউনিটে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধ দমনে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো ডিজিটাল অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এজন্য সাধারণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের আধুনিক ও উচ্চতর প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এনে কিংবা অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে দেশের পুলিশ বাহিনীকে বিশ্বমানের একটি সাইবার নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের এই সভায় সাইবার ইউনিটের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে স্টাফ কলেজের ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ এবং একটি স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্ত করার পাশাপাশি ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ ও ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালুর বিষয়েও ঐকমত্য পোষণ করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের সার্বিক ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন এবং এর চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।