ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার

ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সিএমপির দুই এএসআই ক্লোজড

Bangladesh
September 15, 2026 4:02 am
Link Copied!

জুয়া মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার এক বন্ধুকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের ওই দলটির জবরদস্তির শিকার হয়ে তাদের ব্যাংক হিসাব, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা খোয়াতে হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি সিএমপি কমিশনার হাসান মোতমোর্ত্তজা শওকত আলী গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক যুবকের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় দুই সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িকভাবে প্রত্যাহার বা ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপি রেশন স্টোরের এএসআই সুফিয়ান। প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট ওই ঘটনার সময় এলআইসির সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফুল আলম সুজনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একটি দল নগরীর হালিশহর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে পিপি দানা ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল এবং তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরবর্তীতে তাদের একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য অন্য ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয়। ভুক্তভোগী শাকিল খাতুনগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি পটিয়ায় তার একটি কৃষি খামার রয়েছে, আর তার বন্ধু মনসুরের গাড়ির পার্টসের ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শাকিল ও মনসুরের অভিযোগ অনুযায়ী, এসি শরীফ ও এএসআই বাছির তাদের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়া এবং ভুয়া জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এই ভয়ভীতি দেখিয়ে শাকিলের বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি জোরপূর্বক বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর করিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। গভীর রাতে তাদের কিছু সাদা কাগজে সই নেওয়া এবং ভিডিও ধারণ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

এই ঘটনার পর পুলিশ বিভাগের ভেতরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়। দুই এএসআইকে ক্লোজড করার পাশাপাশি এলআইসির সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজনকেও তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন অপেশাদার ও অপরাধমূলক আচরণ জননিরাপত্তা ও পুলিশের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলে বিধায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ সদর দপ্তর।