দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিতে তামাকজাত পণ্যের ওপর প্রচলিত কর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং দেশের অর্থনীতি ও করনীতির সঙ্গে জড়িত বিশিষ্টজনেরা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় তামাকের ওপর যে কর আরোপ করা হয় তা দেশের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ এবং তামাক ব্যবহারের হার হ্রাসে পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আগেই একটি যুগোপযোগী ও শক্তিশালী জাতীয় তামাক করনীতি প্রণয়ন করার জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের একটি স্বতন্ত্র ও সমন্বিত নীতিমালা থাকলে তামাক খাতের কর ফাঁকি রোধ করা অনেক সহজ হবে এবং সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব জমা হওয়ার স্থায়ী পথ উন্মুক্ত হবে। এছাড়া, এই নীতিমালা তামাক কোম্পানিরগুলোর অযাচিত প্রভাব হ্রাসেও সহায়তা করবে বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।
আলোচনায় তামাকপণ্যগুলোর মূল্যস্তরভিত্তিক জটিল করব্যবস্থা তুলে দিয়ে সুনির্দিষ্ট কর প্রবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তামাক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু হলে সিগারেটের পাশাপাশি বিড়ি, জর্দা এবং গুলের মতো সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম ও নিম্ন আয়ের মানুষ তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, তামাক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতিনিয়ত নানাবিধ মারাত্মক অসংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, যার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। তামাক থেকে আসা রাজস্ব দিয়ে এই স্বাস্থ্যখাতের অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে যদি সঠিক ও কঠোর করনীতি বাস্তবায়ন করা যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নীতিনির্ধারক মহল আসন্ন বাজেট প্রণয়নের সময় এই বিশেষজ্ঞ মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তামাকের ওপর কার্যকরী সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।