ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্ণীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার

বাথরুমে বন্দি রাখা হতো শিশু তানিয়াকে, নির্যাতনে শরীরে পচন

Bangladesh
September 14, 2026 10:16 am
Link Copied!

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তানিয়া নামের ১১ বছরের এক কন্যাশিশু জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অভাবের তাড়নায় পড়ার বয়সে তাকে কাজের সন্ধানে রাজধানীতে পাঠাতে হয়েছিল, কিন্তু সেখানে তার কপালে জুটেছে কেবল অমানবিক নিপীড়ন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে একটি বাথরুমে বন্দি করে রাখা হতো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এই নির্মম নির্যাতনের ফলে তার শরীরে মারাত্মক জখম তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষতস্থানে পচন ধরতে শুরু করে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত দেড় বছর ধরে ঢাকার একটি বাসায় এই শিশুটিকে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো। শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়লে কিছুদিন আগে তাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হলেও ক্ষত ও পচন ছড়িয়ে পড়ায় তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন জানান, তিনি একজন দরিদ্র দিনমজুর এবং অভাবের সংসার হওয়ায় মেয়েকে পড়াশোনা করানোর কোনো উপায় ছিল না। তাছাড়া তানিয়া মাত্র সাত বছর বয়সে তার মাকে হারায়, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। প্রতিবেশী একজনের পরামর্শে তিনি মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তার ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। এখন অসহায় বাবা তার মেয়ের উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

পরিবারের ভাষ্যমতে, যে বাসায় তানিয়া কাজ করত সেখানে রাসেল নামের এক ল্যাপটপ ব্যবসায়ী ও তার শিক্ষক স্ত্রী ছোটন অবস্থান করতেন। ভুক্তভোগী পরিবার ওই দম্পতির সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা উদঘাটন করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, শিশুটির সংকটজনক অবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা জানিয়েছেন যে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের কারণেই তার এই করুণ দশা হয়েছে। অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা বলেছেন যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর শিশুটির পাশে থেকে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।