ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সময় হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনেরা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাসপাতালের ১১ নম্বর লিফটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগী ও তাদের দেখাশোনা করতে আসা লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন তলায় থাকা লোকজন দ্রুত জীবন বাঁচাতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবি, সিঁড়িতে মানুষের অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে তারা পদদলিত হন এবং গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। নিহত চারজন হলেন ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির ও রমজান আলী, তারাকান্দার কুলসুম আক্তার এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ভাষ্যমতে, হুড়োহুড়ির সময় অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে তাদের পক্ষে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত শাহজাহান মনিরের স্ত্রী হারিসা বেগম এবং মা হাওয়া খাতুন জানান, ঘটনার সময় তারা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মারাত্মক বিশৃঙ্খলার শিকার হন এবং ভিড়ের মাঝে শাহজাহান প্রাণ হারান। একইভাবে কুলসুম আক্তারের মেয়ে মিম আক্তার ও ননদ নাজমা আক্তার জানান, পদদলিত হওয়ার হাত থেকে তারা বাঁচলেও অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে কুলসুমকে রক্ষা করা যায়নি। নিহত রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার ও ভাই সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত রমজান ওই সময় সিঁড়িতে মানুষের ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের কাছে মৃত্যুর সঠিক প্রমাণপত্রও রয়েছে।
তবে স্বজনদের এই দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগুনের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। মৃত ব্যক্তিদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার মতো কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত ওই দিন সন্ধ্যায় লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।